﻿অধ্যাপক
প্রথম
পরিচ্ছেদ
জল	b_mwe
-	i_mwe
টল	i_mwe
বড়
স্বচছ

।
রকম	b_mwe
সকম	i_mwe

।
টাপুর	b_mwe
টুপুর	i_mwe

।

ছোটো	b_mwe
-	i_mwe
ছোটো	i_mwe

।
বড়	b_mwe
-	i_mwe
সড়	i_mwe

।

হাবু	b_mwe
-	i_mwe
ডাবু	i_mwe

।
কলেজে
আমার
সহপাঠীসম্প্রদায়ের	b_mwe
মধ্যে
আমার
একটু
বিশেষ
প্রতিপত্তি
ছিল
।

সকলেই
আমাকে
সকল
বিষয়েই
সমজদার
বলিয়া
মনে
করিত
।

খুব
বড়	b_mwe
সড়	i_mwe

।
ইহার
প্রধান
কারণ
,

ভুল
হউক
আর
ঠিক
হউক
সকল
বিষয়েই
আমার
একটা
মতামত
ছিল
।

অধিকাংশ
লোকই
হাঁ
এবং
না
জোর
করিয়া
বলিতে
পারে
না
,

আমি
সেটা
খুব
বলিতাম
।
কেবল
যে
আমি
মতামত
লইয়া
ছিলাম
তাহা
নহে
,

নিজেও
রচনা
করিতাম
;

বক্তৃতা
দিতাম
,

কবিতা
লিখিতাম
,

সমালোচনা
করিতাম
,

এবং
সর্বপ্রকারেই
আমার
সহপাঠীদের	b_mwe
ঈর্ষা
ও
শ্রদ্ধার
পাত্র
হইয়াছিলাম
।
কলেজে
এইরূপে
শেষপর্যন্ত
আপন
মহিমা
মহীয়ান
রাখিয়া
বাহির
হইয়া
আসিতে
পারিতাম
।

কিন্তু
ইতিমধ্যে
আমার
খ্যাতিস্থানের
শনি
এক
নূতন
অধ্যাপকের
মূর্তি
ধারণ	b_mwe
করিয়া	 i_mwe
কলেজে
উদিত
হইল
।
আমাদের
তখনকার
সেই
নবীন
অধ্যাপকটি
আজকালকার
একজন
সুবিখ্যাত
লোক
,

অতএব
আমার
এই
জীবনবৃত্তান্তে
তাঁহার
নাম
গোপন
করিলেও
তাঁহার
উজ্জ্বল
নামের
বিশেষ
ক্ষতি
হইবে
না
।

আমার
প্রতি
তাঁহার
আচরণ
লক্ষ্য	b_mwe
করিয়া	 i_mwe
বর্তমান
ইতিহাসে
তাঁহাকে
বামাচরণবাবু	ne_b_mwe	
বলিয়া
ডাকা	b_mwe
যাইবে	i_mwe
।
ইহার
বয়স
যে
আমাদের
অপেক্ষা
অধিক
ছিল
তাহা
নহে
;

অল্পদিন
হইল
এম.এ.	 b_mwe
পরীক্ষায়
প্রথম
হইয়া
টনি	ne_b_mwe
সাহেবের	ne_i_mwe
বিশেষ
প্রশংসালাভ
করিয়া
বাহির
হইয়া
আসিয়াছেন
,

কিন্তু
লোকটি
ব্রাক্ষ্ম
বলিয়া
কেমন
তাঁহাকে
অত্যন্ত
সুদূর
এবং
স্বতন্ত্র
মনে
হইত
,

আমাদের
সমকালীন
সমবয়স্ক
বলিয়া
বোধ
হইত
না
।

আমরা
নব্যহিন্দুর	b_mwe
দল
পরস্পরের
মধ্যে
তাঁহাকে
ব্রক্ষ্মদৈত্য	ne_b_mwe
বলিয়া
ডাকিতাম
।
আমাদের
একটি
তর্কসভা
ছিল
।

আমি
সে
সভার
বিক্রমাদিত্য	ne_b_mwe
এবং
আমিই
সে
সভার
নবরত্ন	 b_mwe
ছিলাম
।

আমরা
ছত্রিশজন	b_mwe
সভ্য
ছিলাম
,

তন্মধ্যে
পঁয়ত্রিশ	b_mwe
জনকে
গণনা
হইতে
বাদ
দিলে
কোনো
ক্ষতি
হইত
না
এবং
অবশিষ্ট
একজনের
যোগ্যতা
সম্বন্ধে
আমার
যেরূপ
ধারণা
উক্ত
পঁয়ত্রিশ	b_mwe
জনেরও
সেইরূপ
ধারণা
ছিল
।
এই
সভার
বার্ষিক
অধিবেশন
উপলক্ষ্যে
আমি
কার্লাইলের	ne_b_mwe
সমালোচনা
করিয়া
এক
ওজস্বী
প্রবন্ধ
রচনা
করিয়াছিলাম
।

মনে
দৃঢ়
বিশ্বাস
ছিল
,

তাহার
অসাধারণত্বে
শ্রোতামাত্রেই
চমৎকৃত
হইবে—
চমৎকৃত
হইবার
কথা
ছিল
,

কারণ
,

আমার
প্রবন্ধে
কার্লাইলকে	ne_b_mwe
আদ্যোপান্ত	b_mwe
নিন্দা
করিয়াছিলাম
।
সে
অধিবেশনের
সভাপতি
ছিলেন
বামাচরণবাবু	ne_b_mwe
।

প্রবন্ধপাঠ
শেষ
হইলে
আমার
সহাধ্যায়ী
ভক্তগণ
আমার
মতের
অসমসাহসিকতা
ও
ইংরাজিভাষার
বিশুদ্ধ
তেজস্বিতায়
বিমুগ্ধ
ও
নিরুত্তর
হইয়া
বসিয়া
রহিল
।

কাহারো
কিছু
বক্তব্য
নাই
শুনিয়া
বামাচরণবাবু	ne_b_mwe
উঠিয়া
শান্তগম্ভীর	b_mwe
স্বরে
সংক্ষেপে
বুঝাইয়া
দিলেন
যে
,

আমেরিকার	b_mwe
সুলেখক
সুবিখ্যাত
লাউয়েল	ne_b_mwe
সাহেবের	ne_i_mwe
প্রবন্ধ
হইতে
আমার
প্রবন্ধটির
যে
অংশ
চুরি
সে
অংশ
অতি
চমৎকার
,

এবং
যে
অংশ
আমার
সম্পূর্ণ
নিজের
সেটুকু
পরিত্যাগ
করিলেই
ভালো
হইত
।
যদি
তিনি
বলিতেন
,

লাউয়েলের	ne_b_mwe
সহিত
নবীন
প্রবন্ধলেখকের
মতের
এমন
-
কি
ভাষারও
আশ্চর্য
অবিকল
ঐক্য
দেখা
যাইতেছে
,

তাহা
হইলে
তাঁহার
কথাটা
সত্যও
হইত
অথচ
অপ্রিয়ও
হইত
না
।
এই
ঘটনার
পর
,

সহপাঠীমহলে
আমার
প্রতি
যে
অখণ্ড
বিশ্বাস
ছিল
তাহাতে
একটি
বিদারণরেখা	b_mwe
পড়িল	b_mwe
।
কেবল
আমার
চিরানুরক্ত
ভক্তাগ্রগণ্য
অমূল্যচরণের	ne_b_mwe
হৃদয়ে
লেশমাত্র
বিকার
জন্মিল
না
।
সে
আমাকে
বারংবার
বলিতে
লাগিল
,

“
তোমার
বিদ্যাপতি
নাটকখানা
ব্রক্ষ্মদৈত্যকে	b_mwe
শুনাইয়া	b_mwe
দাও	i_mwe
,

দেখি
সে
সম্বন্ধে
নিন্দুক
কী
বলিতে
পারে
।
”
রাজা
শিবসিংহের	ne_b_mwe
মহিষী
লছিমাদেবীকে	ne_b_mwe
কবি
বিদ্যাপতি	ne_b_mwe
ভালোবাসিতেন
এবং
তাঁহাকে
না
দেখিলে
তিনি
কবিতা
রচনা
করিতে
পারিতেন
না
।

এই
মর্ম
অবলম্বন
করিয়া
আমি
একখানি
পরম
শোকাবহ
উচ্চশ্রেণীর
পদ্যনাটক
রচনা
করিয়াছিলাম
;

আমার
শ্রোতৃবর্গের
মধ্যে
যাঁহারা
পুরাতত্ত্বের
মর্যাদা
লঙ্ঘন
করিতে
চাহেন
না
তাঁহারা
বলিতেন
,
ইতিহাসে
এরূপ
ঘটনা
ঘটে
নাই
।

আমি
বলিতাম
,

সে
ইতিহাসের
দুর্ভাগ্য
!

ঘটিলে
ইতিহাস
ঢের
বেশি
সরস
ও
সত্য
হইত
।
নাটকখানি
যে
উচ্চশ্রেণীর
সেকথা
আমি
পূর্বেই
বলিয়াছি
।

অমূল্য
বলিত
সর্ব্বোচ্চশ্রেণীর
।

আমি
আপনাকে
যতটা
মনে
করিতাম
,

সে
আবার
আমাকে
তাহার
চেয়েও
বেশি
মনে
করিত
।

অতএব
আমার
যে
কী
-
এক
বিরাট
রূপ
তাহার
চিত্তে
প্রতিফলিত
ছিল
,

আমিও
তাহার
ইয়ত্তা
করিতে
পারিতাম
না
।
নাটকখানি
বামাচরণবাবুকে	ne_b_mwe
শুনাইয়া
দিবার
পরামর্শ
আমার
কাছে
মন্দ
লাগিল
না
;

কারণ
,

সে
নাটকে
নিন্দাযোগ্য	b_mwe
ছিদ্র	i_mwe
লেশমাত্র
ছিল
না
এইরূপ
আমার
সুদৃঢ়
বিশ্বাস
।

অতএব
,

আর
-
একদিন
তর্কসভার
বিশেষ
অধিবেশন
আহূত
হইল
,

ছাত্রবৃন্দের
সমক্ষে
আমি
আমার
নাটকখানি
পাঠ
করিলাম
এবং
বামাচরণবাবু	b_mwe
তাহার
সমালোচনা
করিলেন
।
সে
সমালোচনাটি
বিস্তারিত
আকারে
লিপিবদ্ধ
করিবার
প্রবৃত্তি
আমার
নাই
।

সংক্ষেপত
,

সমালোচনাটি
আমার
অনুকূল
হয়
নাই
;

বামাচরণবাবুর	b_mwe
মতে
নাটকগত
পাত্রগণের
চরিত্র
ও
মনোভাব
-
সকল
নির্দিষ্ট
বিশেষত্ব
প্রাপ্ত
হয়
নাই
।

বড়ো	b_mwe
বড়ো	i_mwe
সাধারণ
ভাবের
কথা
আছে
,

কিন্তু
তাহা
বাষ্পবৎ
অনিশ্চিত
,

লেখকের
অন্তরের
মধ্যে
আকার
ও
জীবন
প্রাপ্ত
হইয়া
তাহা
সৃজিত
হইয়া
উঠে
নাই
।
বৃশ্চিকের	b_mwe
পুচ্ছদেশেই
হুল
থাকে
,

বামাচরণবাবুর	b_mwe
সমালোচনার
উপসংহারেই
তীব্রতম
বিষ
সঞ্চিত
ছিল
।

আসন
গ্রহণ
করিবার
পূর্বে
তিনি
বলিলেন
,

আমার
এই
নাটকের
অনেকগুলি
দৃশ্য
এবং
মূলভাবটি
গেটে
-
রচিত
টাসো	b_mwe
নাটকের
অনুকরণ
,

এমন
কি
অনেকস্থলে
অনুবাদ
।
এ
কথার
সদুত্তর
ছিল
।

আমি
বলিতে
পারিতাম
,

হউক
অনুকরণ
কিন্তু
সেটা
নিন্দার
বিষয়
নহে
!

সাহিত্যরাজ্যে	b_mwe
চুরিবিদ্যা	
বড়ো
বিদ্যা
,

এমন
-
কি
,

ধরা
পড়িলেও
।

সাহিত্যের
বড়ো	b_mwe
বড়ো	i_mwe
মহাজনগণ	b_mwe
এই
কাজ
করিয়া
আসিয়াছেন
,

এমন
-
কি
,

সেক্সপিয়রও	b_mwe
বাদ
যান
না
।

সাহিত্যে
যাহার
অরিজিন্যালিটি
অত্যন্ত
অধিক
সেই
চুরি
করিতে
সাহস
করে
,

কারণ
,

সে
পরের
জিনিসকে
সম্পূর্ণ
আপনার
করিতে
পারে
।
ভালো	b_mwe
ভালো	i_mwe
এইরূপ
আরও
অনেক
কথা
ছিল
,

কিন্তু
সেদিন
বলা
হয়
নাই
।

বিনয়	b_mwe
তাহার
কারণ
নহে
।

আসল
কথা
,

সেদিন
একটি
কথাও
মনে	b_mwe
পড়ে	i_mwe
নাই	i_mwe
।

প্রায়
পাঁচ	b_mwe
-	i_mwe
সাতদিন	i_mwe
পরে
একে	b_mwe
একে	i_mwe
উত্তরগুলি
দৈবাগত	b_mwe
ব্রক্ষ্মাস্ত্রের	b_mwe
ন্যায়
আমার
মনে
উদয়
হইতে
লাগিল
;

কিন্তু
শত্রুপক্ষ
সম্মুখে
উপস্থিত
না
থাকাতে
সে
অস্ত্রগুলি
আমাকেই
বিঁধিয়া
মারিল
।

ভাবিতাম
,

একথাগুলো
অন্তত
আমার
ক্লাসের
ছাত্রদিগকে
শুনাইয়া
দিব
।

কিন্তু
উত্তরগুলি
আমার
সহাধ্যায়ী	b_mwe
গর্দভদিগের	i_mwe
বুদ্ধির
পক্ষে
কিছু
অতিমাত্র
সূক্ষ্ম
ছিল
!

তাহারা
জানিত
,

চুরিমাত্রেই
চুরি
;

আমার
চুরি
এবং
অন্যের
চুরিতে
যে
কতটা
প্রভেদ
আছে
তাহা
বুঝিবার
সামর্থ্য
যদি
তাহাদের
থাকিত
তবে
আমার
সহিতও
তাহাদের
বিশেষ
প্রভেদ
থাকিত
না
।
বি.এ.
পরীক্ষা
দিলাম
,

পরীক্ষায়
উত্তীর্ণ
হইতে
পারিব
তাহাতেও
আমার
সন্দেহ
ছিল
না
;

কিন্তু
মনে
আনন্দ
রহিল
না
।

বামাচরণের	b_mwe
সেই
গুটিকতক
কথার
আঘাতে
আমার
সমস্ত
খ্যাতি
ও
আশার
অভ্রভেদী	b_mwe
মন্দির	i_mwe
ভগ্নস্তূপ
হইয়া
পড়িল
।

কেবল
আমার
প্রতি
অবোধ
অমূল্যের
শ্রদ্ধা
কিছুতেই
হ্রাস
হইল
না
;

প্রভাতে
যখন
যশঃসূর্য	b_mwe
আমার
সম্মুখে
উদিত
ছিল
তখনও
সেই
শ্রদ্ধা
অতি
দীর্ঘ
ছায়ার
ন্যায়
আমার
পদতললগ্ন
হইয়া
ছিল
,

আবার
সায়াহ্নে
যখন
আমার
পশ্চাতে
যশঃসূর্য	b_mwe
অস্তোন্মুখ	b_mwe
হইল
তখনো
সেই
শ্রদ্ধা
দীর্ঘায়তন
বিস্তার
করিয়া
আমার
পদপ্রান্ত
পরিত্যাগ
করিল
না
।

কিন্তু
এ
শ্রদ্ধায়
কোনো
পরিতৃপ্তি
নাই
,

ইহা
শূন্য
ছায়ামাত্র
,

ইহা
মূঢ়
ভক্তহৃদয়ের
মোহান্ধকার	b_mwe
,

ইহা
বুদ্ধির
উজ্জ্বল
রশ্মিপাত
নহে
।
দ্বিতীয়
পরিচ্ছেদবাবা
বিবাহ
দিবার
জন্য
আমাকে
দেশ
হইতে
ডাকিয়া
পাঠাইলেন
।

আমি
কিছুদিন
সময়
লইলাম
।

বামাচরণবাবুর	b_mwe
সমালোচনায়
আমার
নিজের
মধ্যে
একটা
আত্মবিরোধ
,

নিজের
প্রতি
নিজের
একটা
বিদ্রোহভাব
জন্মিয়াছিল
।

আমার
সমালোচক
অংশ
আমার
লেখক
অংশকে
গোপনে
আঘাত
দিতেছিল
।

আমার
লেখক
অংশ
বলিতেছিল
,

আমি
ইহার
পরিশোধ
লইব
;

আবার
একবার
লিখিব
এবং
তখন
দেখিব
,

আমি
বড়ো
না
আমার
সমালোচক
বড়ো
।
মনে	b_mwe
মনে	i_mwe
স্থির
করিলাম
,

বিশ্বপ্রেম
,

পরের
জন্য
আত্মবিসর্জন	b_mwe
এবং
শত্রুকে
মার্জনা—
এই
ভাবটি
অবলম্বন
করিয়া
গদ্যে
হউক
পদ্যে
হউক
,

খুব
‘সাব্লাইম’
-
গোছের
একটা
-
কিছু
লিখিব
;

বাঙালী
সমালোচকদিগকে
সুবৃহৎ
সমালোচনার
খোরাক
জোগাইব
।
স্থির
করিলাম
,

একটি
সুন্দর
নির্জন
স্থানে
বসিয়া
আমার
জীবনের
এই
সর্বপ্রধান
কীর্তিটির
সৃষ্টিকার্য
সমাধা
করিব
।

প্রতিজ্ঞা
করিলাম
,

অন্তত
একমাসকাল
বন্ধুবান্ধব
পরিচিত
-
অপরিচিত
কাহারও
সহিত
সাক্ষাৎ
করিব
না
।
অমূল্যকে	ne_b_mwe
ডাকিয়া
আমার
প্ল্যান
বলিলাম
।
সে
একেবারে
স্তম্ভিত
হইয়া
গেল
,

সে
যেন
তখনি
আমার
ললাটে
স্বদেশের
অনতিদূরবর্তী
ভাবী
মহিমার
প্রথম
অরুণ	b_mwe
-	i_mwe
জ্যোতি	 i_mwe
দেখিতে
পাইল
।
গম্ভীর
মুখে
আমার
হাত
চাপিয়া
ধরিয়া
বিস্ফারিত
নেত্র
আমার
মুখের
প্রতি
স্থাপন
করিয়া
মৃদুস্বরে
কহিল
,

“
যাও
ভাই
,

অমর
কীর্তি
অক্ষয়
গৌরব
অর্জন
করিয়া
আইস
।
”
আমার
শরীর
রোমাঞ্চিত
হইয়া
উঠিল
;

মনে
হইল
,

যেন
আসন্নগৌরবগর্বিত	b_mwe
ভক্তিবিহ্বল
বঙ্গদেশের	b_mwe
প্রতিনিধি
হইয়া
অমূল্য
এই
কথাগুলি
আমাকে
বলিল
।
অমূল্যও
বড়ো
কম
ত্যাগস্বীকার
করিল
না
;

সে
স্বদেশের
হিতের
জন্য
সুদীর্ঘ
একমাসকাল
আমার
সঙ্গপ্রত্যাশা
সম্পূর্ণরূপে
বিসর্জন
করিল
।

সুগভীর
দীর্ঘনিশ্বাস
ফেলিয়া
আমার
বন্ধু
ট্রামে
চড়িয়া
তাহার
কর্নওয়ালিস	ne_b_mwe
স্ট্রীটের	 ne_i_mwe
বাসায়
চলিয়া
গেল
,

আমি
গঙ্গার
ধারে
ফরাসডাঙার	b_mwe
বাগানে
অমর
কীর্তি
,

অক্ষয়
গৌরব
উপার্জন
করিতে
গেলাম
।
গঙ্গার
ধারে
নির্জন
ঘরে
চিত
হইয়া
শুইয়া
বিশ্বজনীন	b_mwe
প্রেমের
কথা
ভাবিতে	b_mwe
ভাবিতে	i_mwe
মধ্যাহ্নে
প্রগাঢ়
নিদ্রাবেশ
হইত
,

একেবারে
অপরাহ্নে
পাঁচটার
সময়
জাগিয়া
উঠিতাম
।

তাহার
পর
শরীর
মনটা
কিছু
অবসাদগ্রস্ত
হইয়া
থাকিত
;

কোনোমতে
চিত্তবিনোদন
ও
সময়
যাপনের
জন্য
বাগানের
পশ্চাদ্দিকে
রাজপথের
ধারে
একটা
ছোটো
কাষ্ঠাসনে	b_mwe
বসিয়া
চুপচাপ	 b_mwe
করিয়া
গোরুর
গাড়ি
ও
লোক
-
চলাচল	 b_mwe
দেখিতাম
।

নিতান্ত
অসহ্য
হইলে
স্টেশনে
গিয়া
বসিতাম
,

টেলিগ্রাফের
কাঁটা
কট্‌কট্‌	 b_mwe
শব্দ
করিত
,

টিকিটের
ঘণ্টা
বাজিত
,

লোকসমাগম
হইত
,

রক্তচক্ষু
সহস্রপদ
লৌহসরীসৃপ	b_mwe
ফুঁষিত	b_mwe
ফুঁষিতে	 i_mwe
আসিত
,

উৎকট
চীৎকার	b_mwe
করিয়া	 i_mwe
চলিয়া
যাইত
,

লোকজনের
হুড়ামুড়ি	b_mwe
পড়িত
,

কিয়ৎক্ষণের
জন্য
কৌতুকবোধ
করিতাম
।

বাড়ি
ফিরিয়া
আহার
করিয়া
সঙ্গী
অভাবে
সকাল	b_mwe
-	i_mwe
সকাল	i_mwe
শুইয়া
পড়িতাম
,

এবং
প্রাতঃকালে
সকাল	b_mwe
-	i_mwe
সকাল	i_mwe
উঠিবার
কিছুমাত্র
প্রয়োজন
না
থাকাতে
বেলা
আট	b_mwe
-	i_mwe
নয়টা	i_mwe
পর্যন্ত
বিছানায়
যাপন
করিতাম
।
শরীর
মাটি	b_mwe
হইল	i_mwe
,

বিশ্বপ্রেমেরও
কোনো
অন্ধিসন্ধি	b_mwe
খুঁজিয়া
পাইলাম
না
।

কোনোকালে
একা
থাকা
অভ্যাস
না
থাকাতে
সঙ্গীহীন
গঙ্গাতীর
শূন্য
শ্মশানের
মতো
বোধ
হইতে
লাগিল
;

অমূল্যটাও
এমনি
গর্দভ
যে
,

একদিনের
জন্যও
সে
আপন
প্রতিজ্ঞা
ভঙ্গ
করিল
না
।

ইতিপূর্বে
কলিকাতায়	b_mwe
বসিয়া
ভাবিতাম
,

বিপুলচ্ছায়া
বটবৃক্ষের
তলে
পা
ছড়াইয়া
বসিব
,

পদপ্রান্তে
কলনাদিনী
স্রোতস্বিনী
আপন
-
মনে
বহিয়া
চলিবে—
মাঝখানে
স্বপ্নাবিষ্ট
কবি
এবং
চারিদিকে
তাহার
ভাবরাজ্য
ও
বহিঃপ্রকৃতি—
কাননে
পুষ্প
,

শাখায়
বিহঙ্গ
,

আকাশে
তারা
,

মনের
মধ্যে
বিশ্বজনীন
প্রেম
এবং
লেখনীমুখে
অশ্রান্ত
অজস্র
ভাবস্রোত	b_mwe
বিচিত্র
ছন্দে
প্রবাহিত
।

কিন্তু
কোথায়
প্রকৃতি
এবং
কোথায়
প্রকৃতির	b_mwe
কবি	i_mwe
,

কোথায়
বিশ্ব
আর
কোথায়
বিশ্বপ্রেমিক
!

একদিনের
জন্যও
বাগানে
বাহির
হই
নাই
।

কাননের
ফুল
কাননে
ফুটিত
,

আকাশের
তারা
আকাশে
উঠিত
,

বটবৃক্ষের
ছায়া
বটবৃক্ষের
তলে
পড়িত
,

আমিও
ঘরের
ছেলে
ঘরে
পড়িয়া
থাকিতাম
।
আত্মমাহাত্ম্য
কিছুতেই
প্রমাণ
করিতে
না
পারিয়া
বামাচরণের	ne_b_mwe
প্রতি
আক্রোশ
বাড়িয়া
উঠিতে
লাগিল
।
সে
সময়টাতে
বাল্যবিবাহ
লইয়া
বাঙলার
শিক্ষিতসমাজে
একটা
বাগ্‌যুদ্ধ
বাধিয়াছিল
।

বামাচরণ	b_mwe
বাল্যবিবাহের
বিরুদ্ধ
পক্ষে
ছিলেন
এবং
পরস্পর
শোনা
গিয়াছিল
যে
তিনি
একটি
যুবতী
কুমারীর
প্রণয়পাশে
আবদ্ধ
এবং
অচিরে
পরিণয়পাশে
বদ্ধ
হইবার
প্রত্যাশায়
আছেন
।
বিষয়টা
আমার
কাছে
অত্যন্ত
কৌতুকাবহ
ঠেকিয়াছিল
,

এবং
বিশ্বপ্রেমের
মহাকাব্যও
ধরা
দিল
না
,

তাই
বসিয়া	b_mwe
বসিয়া	i_mwe
বামাচরণকে	ne_b_mwe
নায়কের
আদর্শ
করিয়া
কদম্বকলি	ne_b_mwe
মজুমদার	ne_b_mwe
নামক
একটি
কাল্পনিক
যুবতীকে
নায়িকা
খাড়া
করিয়া
সুতীব্র
এক
প্রহসন
লিখিলাম
।

লেখনী
এই
অমর
কীর্তিটি
প্রসব
করিবার
পর
আমি
কলিকাতা	ne_b_mwe
যাত্রার
উদ্যোগ
করিতে
লাগিলাম
।

এমনসময়
যাত্রায়
ব্যাঘাত
পড়িল
।
তৃতীয়
পরিচ্ছেদএকদিন
অপরাহ্নে
স্টেশনে
না
গিয়া
অলসভাবে
বাগানবাড়ির	b_mwe
ঘরগুলি
পরিদর্শন
করিতেছিলাম
।

আবশ্যক
না
হওয়াতে
ইতিপূর্বে
অধিকাংশ
ঘরে
পদার্পণ
করি
নাই
,

বাহ্যবস্তু
সম্বন্ধে
আমার
কৌতূহল
বা
অভিনিবেশ
লেশমাত্র
ছিল
না
।

সেদিন
নিতান্তই
সময়যাপনের
উদ্দেশে
বায়ুভরে
উড্ডীন
চ্যুতপত্রের
মতো
ইতস্তত
ফিরিতেছিলাম
।
উত্তরদিকের
ঘরের
দরজা
খুলিবামাত্র
একটি
ক্ষুদ্র
বারান্দায়
গিয়া
উপস্থিত
হইলাম
।

বারান্দার
সম্মুখেই
বাগানের
উত্তরসীমার
প্রাচীরের
গাত্রসংলগ্ন
দুইটি
বৃহৎ
জামের
গাছ
মুখামুখি	b_mwe
করিয়া
দাঁড়াইয়া
আছে
।

সেই
দুইটি
গাছের
মধ্যবর্তী
অবকাশ
দিয়া
আর
-
একটি
বাগানের
সুদীর্ঘ
বকুলবীথির
কিয়দংশ
দেখা
যায়
।
কিন্তু
সে
-
সমস্তই
আমি
পরে
প্রত্যক্ষ
করিয়াছিলাম
,

তখন
আমার
আর
কিছুই
দেখিবার
অবসর
হয়
নাই
;

কেবল
দেখিয়াছিলাম
,

একটি
ষোড়শী
যুবতী
হাতে
একখানি
বই
লইয়া
মস্তক
আনমিত
করিয়া
পদচারণা
করিতে	 b_mwe
করিতে	 i_mwe
অধ্যয়ন
করিতেছে
।
ঠিক
সেসময়ে
কোনোরূপ
তত্ত্বালোচনা
করিবার
ক্ষমতা
ছিল
না
,

কিন্তু
কিছুদিন
পরে
ভাবিয়াছিলাম
যে
,

দুষ্যন্ত
বড়ো	b_mwe
বড়ো	i_mwe
বাণ
শরাসন
বাগাইয়া
রথে
চড়িয়া
বনে
মৃগয়া
করিতে
আসিয়াছিলেন
,

মৃগ
তো
মরিল
না
,

মাঝে
হইতে
দৈবাৎ
দশমিনিটকাল
গাছের
আড়ালে
দাঁড়াইয়া
যাহা
দেখিলেন
,

যাহা
শুনিলেন
,

তাহাই
তাঁহার
জীবনের
সকল
দেখাশুনার	b_mwe
সেরা
হইয়া
দাঁড়াইল
।

আমিও
পেন্সিল
কলম
এবং
খাতাপত্র
উদ্যত
করিয়া
কাব্যমৃগয়ায়	b_mwe
বাহির
হইয়াছিলাম
,

বিশ্বপ্রেম
বেচারা
তো
পলাইয়া
রক্ষা
পাইল
,

আর
আমি
দুইটি
জামগাছের
আড়াল
হইতে
যাহা
দেখিবার
তাহা
দেখিয়া
লইলাম
;

মানুষের
একটা
জীবনে
এমন
দুইবার
দেখা
যায়
না
।
পৃথিবীতে
অনেক
জিনিসই
দেখি
নাই
।

জাহাজে
উঠি
নাই
,

বেলুনে
চড়ি
নাই
,

কয়লার
খনির
মধ্যে
নামি
নাই—
কিন্তু
আমার
নিজের
মানসী
আদর্শের
সম্বন্ধে
আমি
যে
সম্পূর্ণ
ভ্রান্ত
এবং
অজ্ঞ
ছিলাম
তাহা
এই
উত্তরদিকের
বারান্দায়
আসিবার
পূর্বে
সন্দেহমাত্র
করি
নাই
।

বয়স
একুশ
প্রায়
উত্তীর্ণ
হয়
,

ইতিমধ্যে	b_mwe
আমার
অন্তঃকরণ
কল্পনাযোগবলে	b_mwe
নারীসৌন্দর্যের
একটা
ধ্যানমূর্তি	b_mwe
যে
সৃজন
করিয়া
লয়
নাই
,

এ
কথা
বলিতে
পারি
না
।

সেই
মূর্তিকে
নানা
বেশভূষায়
সজ্জিত
এবং
নানা
অবস্থার
মধ্যে
স্থাপন
করিয়াছি
,

কিন্তু
কখনো
সুদূর
স্বপ্নেও
তাহার
পায়ে
জুতা
,

গায়ে
জামা
,

হাতে
বই
দেখিব
এমন
আশাও
করি
নাই
,

ইচ্ছাও
করি
নাই
।

কিন্তু
আমার
লক্ষ্মী
ফাল্গুন
-
শেষের
অপরাহ্নে
প্রবীণ
তরুশ্রেণীর
আকম্পিত
ঘনপল্লববিতানে
দীর্ঘনিপতিত
ছায়া
এবং
আলোক
-
রেখাঙ্কিত
পুষ্পবনপথে
,

জুতা
পায়ে
দিয়া
,

জামা
গায়ে
দিয়া
,

বই
হাতে
করিয়া
,

দুইটি
জামগাছের
আড়ালে
অকস্মাৎ
দেখা
দিলেন—
আমিও
কোনো
কথাটি
কহিলাম
না
।
দুইমিনিটের
বেশি
আর
দেখা
গেল
না
।

নানা
ছিদ্র
দিয়া
দেখিবার
নানা
চেষ্টা
করিয়াছিলাম
কিন্তু
কোনো
ফল
পাই
নাই
।

সেইদিন
প্রথম
সন্ধ্যায়
প্রাক্কালে
বটবৃক্ষতলে
প্রসারিত
-
চরণে
বসিলাম—
আমার
চোখের
সম্মুখে
পরপারের
ঘনীভূত
তরুশ্রেণীর
উপর
সন্ধ্যাতারা
প্রশান্ত
স্মিতহাস্যে
উদিত
হইল
,

এবং
দেখিতে	b_mwe
দেখিতে	i_mwe
সন্ধ্যাশ্রী
আপন
নাথহীন
বিপুল
নির্জন
বাসরগৃহের
দ্বার
খুলিয়া
নিঃশব্দে
দাঁড়াইয়া
রহিল
।
যে
বইখানি
তাহার
হাতে
দেখিয়াছিলাম
সে
আমার
পক্ষে
একটা
নূতন
রহস্য
নিকেতন
হইয়া
দাঁড়াইল
।

ভাবিতে	b_mwe
লাগিলাম	i_mwe
,

সেটা
কী
বই
।

উপন্যাস
অথবা
কাব্য

?
তাহার
মধ্যে
কী
ভাবের
কথা
আছে

।

যে
-
পাতাটি
খোলা
ছিল
এবং
যাহার
উপর
সেই
অপরাহ্নবেলার
ছায়া
ও
রবিরশ্মি
,

সেই
বকুলবনের
পল্লবমর্মর
এবং
সেই
যুগলচক্ষুর
ঔৎসুক্যপূর্ণ
স্থিরদৃষ্টি
নিপতিত
হইয়াছিল
,

ঠিক
সেই
পাতাটিতে
গল্পের
কোন্‌
অংশ
,

কাব্যের
কোন্‌
রসটুকু
প্রকাশ
পাইতেছিল
।

সেইসঙ্গে
ভাবিতে
লাগিলাম
,

ঘনমুক্ত
কেশজালের
অন্ধকারচ্ছায়াতলে
সুকুমার
ললাটমণ্ডপটির
অভ্যন্তরে
বিচিত্র
ভাবের
আবেশ
কেমন
করিয়া
লীলায়িত
হইয়া
উঠিতেছিল
,

কুমারীহৃদয়ের
নিভৃত
নির্জনতার
উপরে
নব	b_mwe
নব	b_mwe
কাব্যমায়া
কী
অপূর্ব
সৌন্দর্যলোক
সৃজন
করিতেছিল—
অর্ধেক
রাত্রি
ধরিয়া
এমন
কত
কী
ভাবিয়াছিলাম
তাহা
পরিস্ফুটরূপে
ব্যক্ত
করা
অসম্ভব
।
কিন্তু
সে
যে
কুমারী
এ
কথা
আমাকে
কে
বলিল
।

আমার
বহুপূর্ববর্তী
প্রেমিক
দুষ্যন্তকে
পরিচয়লাভের
পূর্বেই
যিনি
শকুন্তলা
সম্বন্ধে
আশ্বাস
দিয়াছিলেন
,

তিনিই
।

তিনি
মনের
বাসনা
;

তিনি
মানুষকে
সত্য
মিথ্যা
ঢের
কথা
অজস্র
বলিয়া
থাকেন
;

কোনোটা
খাটে
,

কোনোটা
খাটে
না
,

দুষ্যন্তের
এবং
আমারটা
খাটিয়া
গিয়াছিল
।
আমার
এই
অপরিচিতা
প্রতিবেশিনী
বিবাহিতা
কি
কুমারী
কি
ব্রাক্ষ্মণ
কি
শূদ্র
,

সে
সংবাদ
লওয়া
আমার
পক্ষে
কঠিন
ছিল
না
,

কিন্তু
তাহা
করিলাম
না
,

কেবল
নীরব
চকোরের
মতো
বহুসহস্র
যোজন
দূর
হইতে
আমার
চন্দ্রমণ্ডলটিকে
বেষ্টন
করিয়া	 b_mwe
করিয়া	 i_mwe
ঊর্ধ্বকণ্ঠে	
নিরীক্ষণ
করিবার
চেষ্টা
করিলাম
।
পরদিন
মধ্যাহ্ন
একখানি
ছোটো
নৌকা
ভাড়া
করিয়া
তীরের
দিকে
চাহিয়া
জোয়ার
বাহিয়া
চলিলাম
,

মাল্লাদিগকে
দাঁড়
টানিতে
নিষেধ
করিয়া
দিলাম
।
আমার
শকুন্তলার	ne_b_mwe
তপোবনকুটিরটি	ne_b_mwe
গঙ্গার
ধারেই
ছিল
।

কুটিরটি
ঠিক
কন্বের
কুটিরের
মতো
ছিল
না
;

গঙ্গা
হইতে
ঘাটের
সিঁড়ি
বৃহৎ
বাড়ির
বারান্দার
উপর
উঠিয়াছে
,

বারান্দাটি
ঢালু
কাঠের
ছাদ
দিয়া
ছায়াময়
।
আমার
নৌকাটি
যখন
নিঃশব্দে
ঘাটের
সম্মুখে
ভাসিয়া
আসিল
,

দেখিলাম
,

আমার
নবযুগের
শকুন্তলা	b_mwe
বারান্দার
ভূমিতলে
বসিয়া
আছেন
;

পিঠের
দিকে
একটা
চৌকি
,

চৌকির
উপরে
গোটাকতক
বই
রহিয়াছে
,

সেই
বইগুলির
উপরে
তাঁহার
খোলা
চুল
স্তূপাকারে
ছড়াইয়া
পড়িয়াছে
,

তিনি
সেই
চৌকিতে
ঠেস্‌
দিয়া
উর্ধ্বমুখ
করিয়া
উত্তোলিত
বাম
বাহুর
উপর
মাথা
রাখিয়াছেন
,

নৌকা
হইতে
তাঁহার
মুখ
অদৃশ্য
,

কেবল
সুকোমল
কণ্ঠের
একটি
সুকুমার
বক্ররেখা
দেখা
যাইতেছে
,

খোলা
দুইখানি
পদপল্লবের
একটি
ঘাটের
উপরের
সিঁড়িতে
এবং
একটি
তাঁহার
নিচের
সিঁড়িতে
প্রসারিত
,

শাড়ির
কালো
পাড়টি
বাঁকা
হইয়া
পড়িয়া
সেই
দুটি
পা
বেষ্টন
করিয়া
আছে
।

একখানা
বই
মনোযোগহীন
শিথিল
দক্ষিণ
হস্ত
হইতে
স্রস্ত
হইয়া
ভূতলে
পড়িয়া
রহিয়াছে
।

মনে
হইল
,

যেন
মূর্তিমতী
মধ্যাহ্নলক্ষ্মী	b_mwe
।

সহসা
দিবসের
কর্মের
মাঝখানে
একটি
নিষ্পন্দসুন্দরী	 b_mwe
অবসরপ্রতিমা	 b_mwe
।

পদতলে
গঙ্গা
,

সম্মুখে
সুদূর
পরপার
এবং
ঊর্ধ্বে
তীব্রতাপিত
নীলাম্বর
তাহাদের
সেই
অন্তরাত্মারূপিণীর	b_mwe
দিকে
,

সেই
দুটি
খোলা
পা
,

সেই
অলসবিন্যস্ত
বাম
বাহু
,

সেই
উৎক্ষিপ্ত
বঙ্কিম
কণ্ঠরেখার	b_mwe
দিকে
নিরতিশয়
নিস্তব্ধ
একাগ্রতার
সহিত
নীরবে
চাহিয়া
আছে
।
যতক্ষণ
দেখা
যায়
দেখিলাম
,

দুই
সজলপল্লব	b_mwe
নেত্রপাতের
দ্বারা
দুইখানি
চরণপদ্ম	b_mwe
বারংবার
নিছিয়া
মুছিয়া
লইলাম
।
অবশেষে
নৌকা
যখন
দূরে
গেল
,

মাঝখানে
একটি
তীরতরুর
আড়াল
আসিয়া
পড়িল
,

তখন
হঠাৎ
যেন
কী
-
একটা
ত্রুটি
স্মরণ
হইল
,

চমকিয়া
মাঝিকে
কহিলাম
,

“
মাঝি
,

আজ
আর
আমার
হুগলি	b_mwe
যাওয়া
হইল
না
,

এইখান
হইতেই
বাড়ি
ফেরো
।
”

কিন্তু
ফিরিবার
সময়
উজানে
দাঁড়
টানিতে
হইল
,

সেই
শব্দে
আমি
সংকুচিত
হইয়া
উঠিলাম
।
সেই
দাঁড়ের
শব্দে
যেন
এমন
কাহাকে
আঘাত
করিতে
লাগিল
যাহা
সচেতন
সুন্দর
সুকুমার
,
যাহা
অনন্ত
-
আকাশ
-
ব্যাপী
অথচ
একটি
হরিণশাবকের
মতো
ভীরু
।
নৌকা
যখন
ঘাটের
নিকটবর্তী
হইল
তখন
দাঁড়ের
শব্দে
আমার
প্রতিবেশিনী
প্রথমে
ধীরে
মুখ
তুলিয়া
মৃদু
কৌতূহলের
সহিত
আমার
নৌকার
দিকে
চাহিল
,

মুহূর্ত
পরেই
আমার
ব্যগ্রব্যাকুল
দৃষ্টি
দেখিয়া
সে
চকিত
হইয়া
গৃহমধ্যে
চলিয়া
গেল
;

আমার
মনে
হইল
,

আমি
যেন
তাহাকে
আঘাত
করিলাম
,

যেন
কোথায়
তাহার
বাজিল
!
তাড়াতাড়ি	b_mwe
উঠিবার
সময়
তাহার
ক্রোড়
হইতে
একটি
অর্ধদষ্ট
সল্পপক্ক
পেয়ারা
গড়াইতে	b_mwe
গড়াইতে	b_mwe
নিম্ন
সোপানে
আসিয়া
পড়িল
,

সেই
দশনচিহ্নিত
অধরচুম্বিত
ফলটির
জন্য
আমার
সমস্ত
অন্তঃকরণ
উৎসুক
হইয়া
উঠিল
,

কিন্তু
মাঝিমাল্লাদের
লজ্জায়
তাহা
দূর
হইতে
নিরীক্ষণ
করিতে	 b_mwe
করিতে	 i_mwe
চলিয়া
গেলাম
।

দেখিলাম
,

উত্তরোত্তর
লোলুপায়মান
জোয়ারের
জল
ছলছল	 b_mwe
লুব্ধ
শব্দে
তাহার
লোল
রসনার
দ্বারা
সেই
ফলটিকে
আয়ত্ত
করিবার
জন্য
বারংবার
উন্মুখ
হইয়া
উঠিতেছে
,

আধ
ঘণ্টার
মধ্যে
তাহার
নির্লজ্জ
অধ্যবসায়
চরিতার্থ
হইবে
ইহাই
কল্পনা
করিয়া
ক্লিষ্টচিত্তে
আমি
আমার
বাড়ির
ঘাটে
আসিয়া
উত্তীর্ণ
হইলাম
।
বটবৃক্ষচ্ছায়ায়
পা
ছড়াইয়া
দিয়া
সমস্ত
দিন
স্বপ্ন
দেখিতে
লাগিলাম
,

দুইখানি
সুকোমল
পদপল্লবের	b_mwe
তলে
বিশ্বপ্রকৃতি
মাথা
নত
করিয়া
পড়িয়া
আছে—
আকাশ
আলোকিত
,

ধরণী
পুলকিত
,

বাতাস
উতলা
,

তাহারই
মধ্যে
দুইখানি
অনাবৃত
চরণ
স্থির
নিষ্পন্দ
সুন্দর
;

তাহারা
জানেও
না
যে
,

তাহাদেরই
রেণুকণার
মাদকতায়
তপ্তযৌবন	b_mwe
নববসন্ত
দিগ্বিদিকে
রোমাঞ্চিত
হইয়া
উঠিতেছে
।
ইতিপূর্বে	b_mwe
প্রকৃতি
আমার
কাছে
বিক্ষিপ্ত
বিচ্ছিন্ন
ছিল
,

নদী
বন
আকাশ
সমস্তই
স্বতন্ত্র
ছিল
।

আজ
সেই
বিশাল
বিপুল
বিকীর্ণতার
মাঝখানে
একটি
সুন্দরী
প্রতিমূর্তি
দেখা
দিবামাত্র
তাহা
অবয়ব
ধারণ
করিয়া
এক
হইয়া
উঠিয়াছে
।

আজ
প্রকৃতি
আমার
কাছে
এক
ও
সুন্দর
,

সে
আমাকে
অহরহ
মূকভাবে
অনুনয়
করিতেছে
,

“
আমি
মৌন
,

তুমি
আমাকে
ভাষা
দেও
,

আমার
অন্তঃকরণে
যে
-
একটি
অব্যক্ত
স্তব
উত্থিত
হইতেছে
তুমি
তাহাকে
ছন্দে
লয়ে
তানে
তোমার
সুন্দর
মানবভাষায়
ধ্বনিত
করিয়া
তোলো
!
”
প্রকৃতির
সেই
নীরব
অনুনয়ে
আমার
হৃদয়ের
তন্ত্রী
বাজিতে
থাকে
।

বারংবার
কেবল
এই
গান
শুনি
,

“
হে
সুন্দরী
,

হে
মনোহারিণী
,

হে
বিশ্বজয়িনী
,

হে
মনপ্রাণপতঙ্গের	b_mwe
একটিমাত্র
দীপশিখা
,

হে
অপরিসীম
জীবন
,

হে
অনন্তমধুর
মৃত্যু
!
”

এ
গান
শেষ
করিতে
পারি
না
,

সংলগ্ন
করিতে
পারি
না
;

ইহাকে
আকারে
পরিস্ফুট
করিতে
পারি
না
,

ইহাকে
ছন্দে
গাঁথিয়া
ব্যক্ত
করিয়া
বলিতে
পারি
না
;

মনে
হয়
,

আমার
অন্তরের
মধ্যে
জোয়ারের
জলের
মতো
একটা
অনির্বচনীয়
অপরিমেয়
শক্তির
সঞ্চার
হইতেছে
,

এখনো
তাহাকে
আয়ত্ত
করিতে
পারিতেছি
না
,

যখন
পারিব
তখন
আমার
কণ্ঠ
অকস্মাৎ
দিব্য
সংগীতে
ধ্বনিত
,

আমার
ললাট
অলৌকিক
আভায়
আলোকিত
হইয়া
উঠিবে
।
এমনসময়
একটি
নৌকা
পরপারের
নৈহাটি	 b_mwe
স্টেশন
হইতে
পার
হইয়া
আমার
বাগানের
ঘাটে
আসিয়া
লাগিল
।
দুই
স্কন্ধের
উপর
কোঁচানো
চাদর
ঝুলাইয়া
ছাতাটি
কক্ষে
লইয়া
হাস্যমুখে
অমূল্য
নামিয়া
পড়িল
।
অকস্মাৎ
বন্ধুকে
দেখিয়া
আমার
মনে
যেরূপ
ভাবোদয়
হইল
,

আশা
করি
,

শত্রুর
প্রতিও
কাহারও
যেন
সেইরূপ
না
ঘটে
।
বেলা
প্রায়
দুইটার
সময়
আমাকে
সেই
বটের
ছায়ায়
নিতান্ত
ক্ষিপ্তের
মতো
বসিয়া
থাকিতে
দেখিয়া
অমূল্যর	ne_b_mwe
মনে
ভারি
একটা
আশার
সঞ্চার
হইল
।
পাছে
বঙ্গদেশের
ভবিষ্যৎ
সর্বশ্রেষ্ঠ
কাব্যের
কোনো
-
একটা
অংশ
তাহার
পদশব্দে
সচকিত
হইয়া
বন্য
রাজহংসের
মতো
একেবারে
জলের
মধ্যে
গিয়া
পড়ে
সেই
ভয়ে
সে
সসংকোচে
মৃদুমন্দগমনে
আসিতে
লাগিল
;

দেখিয়া
আমার
আরও
রাগ
হইল
,

কিঞ্চিৎ
অধীর
হইয়া
কহিলাম
,

“
কী
হে
অমূল্য
,

ব্যাপারখানা
কী
।
তোমার
পায়ে
কাঁটা
ফুটিল
নাকি
।
”

অমূল্য
ভাবিল
,

আমি
খুব
একটা
মজার
কথা
বলিলাম

;

হাসিতে	b_mwe
হাসিতে	i_mwe
কাছে
আসিয়া
তরুতল
কোঁচা
দিয়া
বিশেষরূপে
ঝাড়িয়া
লইল
,

পকেট
হইতে
একটি
রুমাল
লইয়া
ভাঁজ
খুলিয়া
বিছাইয়া
তাহার
উপরে
সাবধানে
বসিল
;

কহিল
,

“
যে
প্রহসনটা
লিখিয়া
পাঠাইয়াছ
সেটা
পড়িয়া
হাসিয়া
বাঁচি
না
।
”

বলিয়া
তাহার
স্থানে	b_mwe
স্থানে	b_mwe
আবৃত্তি
করিতে	 b_mwe
করিতে	 b_mwe
হাস্যেচ্ছ্বাসে
তাহার
নিশ্বাসরোধ
হইবার
উপক্রম
হইল
।
আমার
এমনি
মনে
হইল
যে
,

যে
কলমে
সেই
প্রহসনটা
লিখিয়াছিলাম
,

সেটা
যে
গাছের
কাষ্ঠদণ্ডে
নির্মিত
সেটাকে
শিকড়সুদ্ধ
উৎপাটন
করিয়া
মস্ত
একটা
আগুনে
প্রহসনটাকে
ছাই
করিয়া
ফেলিলেও
আমার
খেদ
মিটিবে
না
।অমূল্য	ne_b_mwe
সসংকোচে
জিজ্ঞাসা
করিল
,

“
তোমার
সে
কাব্যের
কতদূর
।
”

শুনিয়া
আরও
আমার
গা
জ্বলিতে
লাগিল
;

মনে	b_mwe
মনে	i_mwe
কহিলাম
,

‘যেমন
আমার
কাব্য
তেমনি
তোমার
বুদ্ধি’
!

মুখে
কহিলাম
,

‘সেসব
পরে
হইবে
ভাই
,

আমাকে
অনর্থক
ব্যস্ত
করিয়া
তুলিয়ো
না
।’অমূল্য	ne_b_mwe
লোকটা
কৌতূহলী
,

চারি
দিক
পর্যবেক্ষণ
না
করিয়া
সে
থাকিতে
পারে
না
,
তাহার
ভয়ে
আমি
উত্তরের
দরজাটা
বন্ধ
করিয়া
দিলাম
।
সে
আমাকে
জিজ্ঞাসা
করিল
,

“
ও
দিকে
কী
আছে
হে
।
”

আমি
বলিলাম
,

“
কিছু
না
।
”

এতবড়ো
মিথ্যা
কথাটা
আমার
জীবনে
আর
কখনো
বলি
নাই
।দুটা
দিন
আমাকে
নানা
প্রকারে
বিদ্ধ
করিয়া
,

দগ্ধ
করিয়া

,

তৃতীয়
দিনের
সন্ধ্যার
ট্রেনে
অমূল্য
চলিয়া
গেল
।

এই
দুটা
দিন
আমি
বাগানের
উত্তরের
দিকে
যাই
নাই
,

সেদিকে
নেত্রপাতমাত্র
করি
নাই
,

কৃপণ
যেমন
তাহার
রত্নভাণ্ডারটি
লুকাইয়া
বেড়ায়
আমি
তেমনি
করিয়া
আমার
উত্তরের
সীমানার
বাগানটি
সামলাইয়া
বেড়াইতেছিলাম
।

অমূল্য	ne_b_mwe
চলিয়া
যাইবামাত্র
একেবারে
ছুটিয়া
দ্বার
খুলিয়া
দোতলার
ঘরের
উত্তরের
বারান্দায়
বাহির
হইয়া
পড়িলাম
।

উপরে
উন্মুক্ত
আকাশে
প্রথম
কৃষ্ণপক্ষের
অপর্যাপ্ত
জ্যোৎস্না
;

নিম্নে
শাখাজালনিবদ্ধ
তরুশ্রেণীতলে
খণ্ডকিরণখচিত
একটি
গভীর
নিভৃত
প্রদোষান্ধকার
;

মর্মরিত
ঘনপল্লবের
দীর্ঘনিশ্বাসে
,

তরুতলবিচ্যুত
বকুলফুলের
নিবিড়
সৌরভে
এবং
সন্ধ্যারণ্যের	b_mwe
স্তম্ভিত
সংযত
নিঃশব্দতায়
তাহা
রোমে	b_mwe
রোমে	i_mwe
পরিপূর্ণ
হইয়া
ছিল
।

তাহারই
মাঝখানটিতে
আমার
কুমারী
প্রতিবেশিনী
তাহার
শ্বেতশ্মশ্রু	b_mwe
বৃদ্ধ
পিতার
দক্ষিণ
হস্ত
ধরিয়া
ধীরে	b_mwe
ধীরে	i_mwe
পদচারণা
করিতে	 b_mwe
করিতে	 i_mwe
কী
কথা
কহিতেছিল—
বৃদ্ধ
সস্নেহে
অথচ
শ্রদ্ধাভরে
ঈষৎ
অবনমিত
হইয়া
নীরবে
মনোযোগসহকারে
শুনিতেছিলেন
।

এই
পবিত্র
স্নিগ্ধ
বিশ্রম্ভালাপে
ব্যাঘাত
করিবার
কিছুই
ছিল
না
,

সন্ধ্যাকালের
শান্ত
নদীতে
ক্বচিৎ
দাঁড়ের
শব্দ
সুদূরে
বিলীন
হইতেছিল
এবং
অবিরল
তরুশাখার
অসংখ্য
নীড়ে
দুটি
-
একটি
পাখি
দৈবাৎ
ক্ষণিক
মৃদুকাকলীতে
জাগিয়া
উঠিতেছিল
।

আমার
অন্তঃকরণ
আনন্দে
অথবা
বেদনায়
যেন
বিদীর্ণ
হইবে
মনে
হইল
।

আমার
অস্তিত্ব
যেন
প্রসারিত
হইয়া
সেই
ছায়ালোকবিচিত্র
ধরণীতলের
সহিত
এক
হইয়া
গেল
,

আমি
যেন
আমার
বক্ষঃস্থলের
উপর
ধীরবিক্ষিপ্ত
পদচারণা
অনুভব
করিতে
লাগিলাম
,

যেন
তরুপল্লবের
সহিত
সংলগ্ন
হইয়া
গিয়া
আমার
কানের
কাছে
মধুর
মৃদুগুঞ্জনধ্বনি
শুনিতে
পাইলাম
।

এই
বিশাল
মূঢ়
প্রকৃতির
অন্তর্বেদনা
যেন
আমার
সর্বশরীরের
অস্থিগুলির
মধ্যে
কুহরিত
হইয়া
উঠিল
;

আমি
যেন
বুঝিতে
পারিলাম
,

ধরণী
পায়ের
নিচে
পড়িয়া
থাকে
অথচ
পা
জড়াইয়া
ধরিতে
পারে
না
বলিয়া
ভিতরে	 b_mwe
ভিতরে	 i_mwe
কেমন
করিতে
থাকে
,

নতশাখা
বনস্পতিগুলি
কথা
শুনিতে
পারে
অথচ
কিছুই
বুঝিতে
পারে
না
বলিয়া
সমস্ত
শাখায়
পল্লবে
মিলিয়া
কেমন
ঊর্ধ্বশ্বাসে
উন্মাদ
কলশব্দে
হাহাকার
করিয়া
উঠিতে
চাহে
।

আমিও
আমার
সর্বাঙ্গে
সর্বান্তঃকরণে
ঐ
পদবিক্ষেপ
,

ঐ
বিশ্রম্ভালাপ
অব্যবহিতভাবে
অনুভব
করিতে
লাগিলাম
কিন্তু
কোনোমতেই
ধরিতে
পারিলাম
না
বলিয়া
ঝুরিয়া	 b_mwe
ঝুরিয়া	 i_mwe
মরিতে
লাগিলাম
।
পরদিন
আমি
আর
থাকিতে
পারিলাম
না
।
প্রাতঃকালে
আমার
প্রতিবেশীর
সহিত
সাক্ষাৎ
করিতে
গেলাম
।
ভবনাথবাবু	ne_b_mwe
তখন
বড়ো
এক
পেয়ালা
চা
পাশে
রাখিয়া
চোখে
চশমা
দিয়া
নীলপেন্সিলে
দাগ
-
করা
একখানা
হ্যামিল্‌টনের	ne_b_mwe
পুরাতন
পুঁথি
মনোযোগ
দিয়া
পড়িতেছিলেন
।
আমি
ঘরে
প্রবেশ
করিলে
চশমার
উপরিভাগ
হইতে
আমাকে
কিয়ৎক্ষণ
অন্যমনস্কভাবে
দেখিলেন
,

বই
হইতে
মনটাকে
এক
মুহূর্তে
প্রত্যাহরণ
করিতে
পারিলেন
না
।
অবশেষে
অকস্মাৎ
সচকিত
হইয়া
ত্রস্তভাবে
আতিথ্যের
জন্য
প্রস্তুত
হইয়া
উঠিলেন
।
আমি
সংক্ষেপে
আত্মপরিচয়
দিলাম
।
তিনি
এমনি
শশব্যস্ত
হইয়া
উঠিলেন
যে
চশমার
খাপ
খুঁজিয়া
পাইলেন
না
।
খামকা
বলিলেন
“
আপনি
চা
খাইবেন

?
”
আমি
যদিও
চা
খাই
না
,

তথাপি
বলিলাম
,

“
আপত্তি
নাই
।
”

ভবনাথবাবু	b_mwe
ব্যস্ত
হইয়া
উঠিয়া
‘কিরণ’	ne_b_mwe
‘কিরণ’	ne_b_mwe
বলিয়া
ডাকিতে
লাগিলেন
।
দ্বারের
নিকট
অত্যন্ত
মধুর
শব্দ
শুনিলাম
,

“
কী
বাবা
।
”

ফিরিয়া
দেখিলাম
,

তাপসকন্বদুহিতা
সহসা
আমাকে
দেখিয়া
ত্রস্ত
হরিণীর
মতো
পলায়নোদ্যত
হইয়াছেন
।
ভবনাথবাবু	ne_b_mwe
তাঁহাকে
ফিরিয়া
ডাকিলেন
;

আমার
পরিচয়
দিয়া
কহিলেন
,

“
ইনি
আমাদের
প্রতিবেশী
মহীন্দ্রকুমার
বাবু
।
”

এবং
আমাকে
কহিলেন
,

“
ইনি
আমার
কন্যা
কিরণবালা	ne_b_mwe
।
”

আমি
কী
করিব
ভাবিয়া
পাইতেছিলাম
না
,

ইতিমধ্যে
কিরণ
আমাকে
আনম্রসুন্দর
নমস্কার
করিলেন
।
আমি
তাড়াতাড়ি	ne_b_mwe
ত্রুটি
সারিয়া
লইয়া
তাহা
শোধ
করিয়া
দিলাম
।
ভবনাথবাবু	ne_b_mwe
কহিলেন
,

“
মা
,

মহীন্দ্রবাবুর	ne_b_mwe
জন্য
এক
পেয়ালা
চা
আনিয়া
দিতে
হইবে
।
”

আমি
মনে	b_mwe
মনে	i_mwe
অত্যন্ত
সংকুচিত
হইয়া
উঠিলাম
কিন্তু
মুখ
ফুটিয়া
কিছু
বলিবার
পূর্বেই
কিরণ
ঘর
হইতে
বাহির
হইয়া
গেলেন
।
আমার
মনে
হইল
,

যেন
কৈলাসে
সনাতন
ভোলানাথ	ne_b_mwe
তাঁহার
কন্যা
স্বয়ং
লক্ষ্মীকে	ne_b_mwe
অতিথির
জন্য
এক
পেয়ালা
চা
আনিতে
বলিলেন
;

অতিথির
পক্ষে
সে
নিশ্চয়ই
অমিশ্র
অমৃত
হইবে
,

কিন্তু
তবু
,

কাছাকাছি	b_mwe
নন্দীভৃঙ্গী	ne_b_mwe
কোনো
বেটাই
কি
হাজির
ছিল
না
!
চতুর্থ
পরিচ্ছেদভবনাথবাবুর
বাড়ি
আমি
এখন
নিত্য
অতিথি
।

পূর্বে
চা
জিনিসটাকে
অত্যন্ত
ডরাইতাম
,

এক্ষণে
সকালে
বিকালে
চা
খাইয়া	b_mwe
খাইয়া	i_mwe
আমার
চায়ের
নেশা
ধরিয়া
গেল
।
আমাদের
বি.এ.
পরীক্ষার
জন্য
জর্মানপণ্ডিত
-
বিরচিত
দর্শনশাস্ত্রের
নব্য
ইতিহাস
আমি
সদ্য
পাঠ
করিয়া
আসিয়াছিলাম
,

তদুপলক্ষে
ভবনাথবাবুর	ne_b_mwe
সহিত
কেবল
দর্শন
আলোচনার
জন্যই
আসিতাম
কিছুদিন
এইপ্রকার
ভান
করিলাম
।

তিনি
হ্যামিল্‌টন	ne_b_mwe
প্রভৃতি
কতকগুলি
সেকাল
-
প্রচলিত
ভ্রান্ত
পুঁথি
লইয়া
এখনো
নিযুক্ত
রহিয়াছেন
,

ইহাতে
তাঁহাকে
আমি
কৃপাপাত্র	b_mwe
মনে
করিতাম
,

এবং
আমার
নূতন
বিদ্যা
অত্যন্ত
আড়ম্বরের
সহিত
জাহির
করিতে
ছাড়িতাম
না
।

ভবনাথবাবু	ne_b_mwe
এমনি
ভালোমানুষ
,

এমনি
সকল
বিষয়ে
সসংকোচ
যে
,

আমার
মতো
অল্পবয়স্ক
যুবকের
মুখ
হইতেও
সকল
কথা
মানিয়া
যাইতেন
,

তিলমাত্র
প্রতিবাদ
করিতে
হইলে
অস্থির
হইয়া
উঠিতেন
,

ভয়
করিতেন
পাছে
আমি
কিছুতে
ক্ষুণ্ন
হই
।

কিরণ	ne_b_mwe
আমাদের
এই
-
সকল
তত্ত্বালোচনার
মাঝখান
হইতেই
কোনো
ছুতায়
উঠিয়া
চলিয়া
যাইত
।

তাহাতে
আমার
যেমন
ক্ষোভ
জন্মিত
তেমনি
আমি
গর্বও
অনুভব
করিতাম
।

আমাদের
আলোচ্য
বিষয়ের
দুরূহ
পাণ্ডিত্য
কিরণের
পক্ষে
দুঃসহ
;

সে
যখন
মনে	b_mwe
মনে	i_mwe
আমার
বিদ্যাপর্বতের	b_mwe
পরিমাণ
করিত
তখন
তাহাকে
কত
উচ্চেই
চাহিতে
হইত
।
কিরণকে	ne_b_mwe
যখন
দূর
হইতে
দেখিতাম
তখন
তাহাকে
শকুন্তলা	ne_b_mwe
দময়ন্তী	 ne_b_mwe
প্রভৃতি
বিচিত্র
নামে
এবং
বিচিত্রভাবে
জানিতাম
,

এখন
ঘরের
মধ্যে
তাহাকে
‘কিরণ’	ne_b_mwe
বলিয়া
জানিলাম
,

এখন
আর
সে
জগতের
বিচিত্র
নায়িকার
ছায়ারূপিণী
নহে
,

এখন
সে
একমাত্র
কিরণ
।

এখন
সে
শতশতাব্দীর
কাব্যলোক
হইতে
অবতীর্ণ
হইয়া
অনন্তকালের
যুবকচিত্তের
স্বপ্নস্বর্গ	 b_mwe
পরিহার
করিয়া
একটি
নির্দিষ্ট
বাঙালিঘরের
মধ্যে
কুমারী
-
কন্যারূপে
বিরাজ
করিতেছে
।

সে
আমারই
মাতৃভাষায়
আমার
সঙ্গে
অত্যন্ত
সাধারণ
ঘরের
কথা
বলিয়া
থাকে
,

সামান্য
কথায়
সরলভাবে
হাসিয়া
উঠে
,

সে
আমাদেরই
ঘরের
মেয়ের
মতো
দুই
হাতে
দুটি
সোনার
বালা
পরিয়া
থাকে
,

গলার
হারটি
বেশি
কিছু
নয়
কিন্তু
বড়ো
সুমিষ্ট
,

শাড়ির
প্রান্তটি
কখনো
কবরীর
উপরিভাগ
বাঁকিয়া
বেষ্টন
করিয়া
আসে
কখনো
বা
পিতৃগৃহের
অনভ্যাসবশত
চ্যুত
হইয়া
পড়িয়া
যায়
,

ইহা
আমার
কাছে
বড়ো
আনন্দের
।

সে
যে
অকাল্পনিক
,

সে
যে
সত্য
,

সে
যে
কিরণ
,

সে
যে
তাহা
ব্যতীত
নহে
এবং
তাহার
অধিক
নহে
,

এবং
যদিচ
সে
আমার
নহে
তবুও
সে
যে
আমাদের
,

সেজন্য
আমার
অন্তঃকরণ
সর্বদাই
তাহার
প্রতি
উচ্ছ্বসিত
কৃতজ্ঞতারসে
অভিষিক্ত
হইতে
থাকে
।
একদিন
জ্ঞানমাত্রেরই
আপেক্ষিকতা
লইয়া
ভবনাথবাবুর	ne_b_mwe
নিকট
অত্যন্ত
উৎসাহসহকারে
বাচালতা
প্রকাশ
করিতেছিলাম
;

আলোচনা
কিয়দ্‌দূর
অগ্রসর
হইবামাত্র
কিরণ
উঠিয়া
গেল
,

এবং
অনতিকাল
পরেই
সম্মুখের
বারান্দায়
একটা
তোলা
উনান
এবং
রাঁধিবার
সরঞ্জাম
আনিয়া
রাখিয়া
ভবনাথবাবুকে	 ne_b_mwe
ভৎর্সনা
করিয়া
বলিল
,

“
বাবা
,

কেন
তুমি
মহীন্দ্রবাবুকে	ne_b_mwe
ঐ
-
সকল
শক্ত
কথা
লইয়া
বৃথা
বকাইতেছ
।
আসুন
মহীন্দ্রবাবু	ne_b_mwe
,

তার
চেয়ে
আমার
রান্নায়
যোগ
দিলে
কাজে
লাগিবে
।
”
ভবনাথবাবুর	ne_b_mwe
কোনো
দোষ
ছিল
না
,

এবং
কিরণ
তাহা
অবগত
ছিল
।
কিন্তু
ভবনাথবাবু	ne_b_mwe
অপরাধীর
মতো
অনুতপ্ত
হইয়া
ঈষৎ
হাসিয়া
বলিলেন
,

“
তা
বটে
!

আচ্ছা
ও
কথাটা
আর
-
একদিন
হইবে
।
”

এই
বলিয়া
নিরুদ্‌বিগ্নচিত্তে
তিনি
তাঁহার
নিত্যনিয়মিত	b_mwe
অধ্যয়নে
নিযুক্ত
হইলেন
।আবার
আর
-
একদিন
অপরাহ্নে
আর
-
একটা
গুরুতর
কথা
পাড়িয়া
ভবনাথবাবুকে	 ne_b_mwe
স্তম্ভিত
করিয়া
দিতেছি
এমনসময়
মাঝখানে
আসিয়া
কিরণ	ne_b_mwe
কহিল
,

“
মহীন্দ্রবাবু	ne_b_mwe
,

অবলাকে
সাহায্য
করিতে
হইবে
।
দেয়ালে
লতা
চড়াইব
,

নাগাল
পাইতেছি
না
,

আপনাকে
এই
পেরেকগুলি
মারিয়া
দিতে
হইবে
।
”

আমি
উৎফুল্ল
হইয়া
উঠিয়া
গেলাম
,

ভবনাথবাবুও	ne_b_mwe
প্রফুল্লমনে
পড়িতে
বসিলেন
।এমনি
প্রায়
যখনই
ভবনাথবাবুর	ne_b_mwe
কাছে
আমি
ভারি
কথা
পাড়িবার
উপক্রম
করি
,

কিরণ	ne_b_mwe
একটা
-
না
-
একটা
কাজের
ছুতা
ধরিয়া
ভঙ্গ
করিয়া
দেয়
।

ইহাতে
আমি
মনে	b_mwe
মনে	i_mwe
পুলকিত
হইয়া
উঠিতাম
,

আমি
বুঝিতাম
যে
,

কিরণের	ne_b_mwe
কাছে
আমি
ধরা
পড়িয়াছি
;

সে
কেমন
করিয়া
বুঝিতে
পারিয়াছে
যে
,

ভবনাথবাবুর	ne_b_mwe
সহিত
তত্ত্বালোচনা
আমার
জীবনের
চরম
সুখ
নহে
।
বাহ্যবস্তুর
সহিত
আমাদের
ইন্দ্রিয়বোধের
সম্বন্ধ
নির্ণয়
করিতে
গিয়া
যখন
দুরূহ
রহস্যরসাতলের	ne_b_mwe
মধ্যপথে
অবতীর্ণ
হইয়াছি
এমনসময়
কিরণ	ne_b_mwe
আসিয়া
বলিত
,

“
মহীন্দ্রবাবু	ne_b_mwe
,

রান্নাঘরের	b_mwe
পাশে
আমার
বেগুনের
খেত
আপনাকে
দেখাইয়া
আনিগে
,

চলুন
।
”
আকাশকে
অসীম
মনে
করা
কেবল
আমাদের
অনুমানমাত্র
,

আমাদের
অভিজ্ঞতা
ও
কল্পনাশক্তির
বাহিরে
কোথাও
কোনো
-
একরূপে
তাহার
সীমা
থাকা
কিছুই
অসম্ভব
নহে
,

ইত্যাকার
মন্তব্য
প্রকাশ
করিতেছি
,

এমনসময়
কিরণ
আসিয়া
বলিত
,

“
মহীন্দ্রবাবু	ne_b_mwe
,

দুটা
আম
পাকিয়াছে
,

আপনাকে
ডাল
নামাইয়া
ধরিতে
হইবে
।
”
কী
উদ্ধার
,

কী
মুক্তি
।

অকূল
সমুদ্রের
মাঝখান
হইতে
এক
মুহূর্তে
কী
সুন্দর
কূলে
আসিয়া
উঠিতাম
।

অনন্ত
আকাশ
ও
বাহ্যবস্তু
সম্বন্ধে
সংশয়জাল
যতই
দুশ্ছেদ্য
জটিল
হউক
-
না
কেন
,

কিরণের	ne_b_mwe
বেগুনের
খেত
বা
আমতলা	ne_b_mwe
সম্বন্ধে
কোনোপ্রকার
দুরূহতা
ও
সন্দেহের
লেশমাত্র
ছিল
না
।

কাব্যে
বা
উপন্যাসে
তাহা
উল্লেখযোগ্য
নহে
কিন্তু
জীবনে
তাহা
সমুদ্রবেষ্টিত
দ্বীপের
ন্যায়
মনোহর
।

মাটিতে
পা
ঠেকা
যে
কী
আরাম
তাহা
সে
-
ই
জানে
যে
বহুক্ষণ
জলের
মধ্যে
সাঁতার
দিয়াছে
।

আমি
এতদিন
কল্পনায়
যে
প্রেমসমুদ্র	b_mwe
সৃজন
করিয়াছিলাম
তাহা
যদি
সত্য
হইত
তবে
সেখানে
চিরকাল
যে
কী
করিয়া
ভাসিয়া
বেড়াইতাম
তাহা
বলিতে
পারি
না
।

সেখানে
আকাশও
অসীম
,

সমুদ্রও
অসীম
,

সেখান
হইতে
আমাদের
প্রতিদিবসের
বিচিত্র
জীবনযাত্রার
সীমাবদ্ধ
ব্যাপার
একেবারে
নির্বাসিত
,

সেখানে
তুচ্ছতার
লেশমাত্র
নাই
,

সেখানে
কেবল
ছন্দে
লয়ে
সংগীতে
ভাব
ব্যক্ত
করিতে
হয়
,

এবং
তলাইতে
গেলে
কোথাও
তল
পাওয়া
যায়
না
।

কিরণ	ne_b_mwe
সেখান
হইতে
মজ্জমান
এই
হতভাগ্যের
কেশপাশ
ধরিয়া
যখন
তাহার
আমতলায়	ne_b_mwe
তাহার
বেগুনের
খেতে
টানিয়া
তুলিল
তখন
পায়ের
তলায়
মাটি
পাইয়া
আমি
বাঁচিয়া
গেলাম
।

আমি
দেখিলাম
,

বারান্দায়
বসিয়া
খিচুড়ি
রাঁধিয়া
,

মই
চড়িয়া
দেয়ালে
পেরেক
মারিয়া
,

লেবুগাছে
ঘনসবুজ
পত্ররাশির
মধ্য
হইতে
সবুজ
লেবুফল
সন্ধান
করিতে
সাহায্য
করিয়া
অভাবনীয়
আনন্দ
লাভ
করা
যায়
,

অথচ
সে
আনন্দলাভের
জন্য
কিছুমাত্র
প্রয়াস
পাইতে
হয়
না—
আপনি
যে
কথা
মুখে
আসে
,

আপনি
যে
হাসি
উচ্ছ্বসিত
হইয়া
উঠে
,

আকাশ
হইতে
যতটুকু
আলো
আসে
এবং
গাছ
হইতে
যতটুকু
ছায়া
পড়ে
তাহাই
যথেষ্ট
।

ইহা
ছাড়া
আমার
কাছে
একটি
সোনার	b_mwe
কাঠি	i_mwe
ছিল
আমার
নবযৌবন
,

একটি
পরশপাথর	b_mwe
ছিল
আমার
প্রেম
,

একটি
অক্ষয়
কল্পতরু	b_mwe
ছিল
আমার
নিজের
প্রতি
নিজের
অক্ষুণ্ন
বিশ্বাস
;

আমি
বিজয়ী
,

আমি
ইন্দ্র	ne_b_mwe
,

আমার
উচ্চৈঃশ্রবার
পথে
কোনো
বাধা
দেখিতে
পাই
না
।

কিরণ	ne_b_mwe
,

আমার
কিরণ	ne_b_mwe
,

তাহাতে
আমার
সন্দেহ
নাই
।

সেকথা
এতক্ষণ
স্পষ্ট
করিয়া
বলি
নাই
,

কিন্তু
হৃদয়ের
এক
প্রান্ত
হইতে
আর
-
এক
প্রান্ত
মুহূর্তের
মধ্যে
মহাসুখে
বিদীর্ণ
করিয়া
সে
কথা
বিদ্যুতের
মতো
আমার
সমস্ত
অন্তঃকরণ
ধাঁধিয়া
ক্ষণে	b_mwe
ক্ষণে	i_mwe
নাচিয়া
উঠিতেছিল
।

কিরণ
,

আমার
কিরণ
।
ইতিপূর্বে
আমি
কোনো
অনাত্মীয়া
মহিলার
সংস্রবে
আসি
নাই
,

যে
নব্য
-
রমণীগণ
শিক্ষালাভ
করিয়া
অবরোধের
বাহিরে
সঞ্চরণ
করেন
তাঁহাদের
রীতিনীতি
আমি
কিছুই
অবগত
নহি
;

অতএব
তাঁহাদের
আচরণে
কোন্‌খানে
শিষ্টতার
সীমা
,

কোন্‌খানে
প্রেমের
অধিকার
,

তাহা
আমি
কিছুই
জানি
না
;

কিন্তু
ইহাও
জানি
না
,

আমাকে
কেনই
বা
ভালো
না
বাসিবে
,

আমি
কোন্‌
অংশে
ন্যূন
।
কিরণ	ne_b_mwe	
যখন
আমার
হাতে
চায়ের
পেয়ালাটি
দিয়া
যাইত
তখন
চায়ের
সঙ্গে
পাত্রভরা
কিরণের	ne_b_mwe	
ভালোবাসাও
গ্রহণ
করিতাম
,

চা
-
টি
যখন
পান
করিতাম
তখন
মনে
করিতাম
,

আমার
গ্রহণ
সার্থক
হইল
এবং
কিরণেরও	ne_b_mwe
দান
সার্থক
হইল
।

কিরণ	ne_b_mwe
যদি
সহজ
সুরে
বলিত
“
মহীন্দ্রবাবু	ne_b_mwe
,

কাল
সকালে
আসবেন
তো

?
”
তাহার
মধ্যে
ছন্দে
লয়ে
বাজিয়া	b_mwe
উঠিত—	i_mwe















কী
মোহিনী
জান
,

বন্ধু
,

কী
মোহিনী
জান
!
















অবলার
প্রাণ
নিতে
নাহি
তোমা
-
হেন
!
আমি

সহজ

কথায়

উত্তর

করিতাম
,


“
কাল

আটটার

মধ্যে

আসব
।
”



তাহার

মধ্যে

কিরণ	ne_b_mwe

কি
শুনিতে
পাইত
না—















পরাণপুতলি
তুমি
হিয়ে
-
মণিহার
,
















সরবস
ধন
মোর
সকল
সংসার
।
আমার
সমস্ত
দিন
এবং
সমস্ত
রাত্রি
অমৃতে
পূর্ণ
হইয়া
গেল
।

আমার
সমস্ত
চিন্তা
এবং
কল্পনা
মুহূর্তে	b_mwe
মুহূর্তে	i_mwe
নূতন	b_mwe
নূতন	i_mwe
শাখাপ্রশাখা
বিস্তার
করিয়া
লতার
ন্যায়
কিরণকে	ne_b_mwe
আমার
সহিত
বেষ্টন
করিয়া
বাঁধিতে
লাগিল
।

যখন
শুভ
-
অবসর
আসিবে
তখন
কিরণকে	ne_b_mwe
কী
পড়াইব
,

কী
শিখাইব
,

কী
শুনাইব
,

কী
দেখাইব
তাহারই
অসংখ্য
সংকল্পে
আমার
মন
আচ্ছন্ন
হইয়া
গেল
।

এমন
-
কি
স্থির
করিলাম
,

জর্মানপণ্ডিত
-
রচিত
দর্শনশাস্ত্রের
নব্য
ইতিহাসেও
যাহাতে
তাহার
চিত্তের
ঔৎসুক্য
জন্মে
এমন
শিক্ষা
তাহাকে
দিতে
হইবে
,

নতুবা
আমাকে
সে
সর্বতোভাবে
বুঝিতে
পারিবে
না
।

ইংরাজি
কাব্যসাহিত্যের
সৌন্দর্যলোকে
আমি
তাহাকে
পথ
দেখাইয়া
লইয়া
যাইব
।

আমি
মনে	b_mwe
মনে	i_mwe
হাসিলাম
,

কহিলাম
,

‘কিরণ	 ne_b_mwe
,

তোমার
আমতলা
,

বেগুনের
খেত
আমার
কাছে
নূতন
রাজ্য
।

আমি
কস্মিনকালে
স্বপ্নেও
জানিতাম
না
যে
,

সেখানে
বেগুন
এবং
ঝড়ে
-
পড়া
কাঁচা
আম
ছাড়াও
দুর্লভ
অমৃতফল
এত
সহজে
পাওয়া
যায়
।

কিন্তু
যখন
সময়
আসিবে
তখন
আমিও
তোমাকে
এমন
এক
রাজ্যে
লইয়া
যাইব
যেখানে
বেগুন
ফলে
না
কিন্তু
তথাপি
বেগুনের
অভাব
মুহূর্তের
জন্য
অনুভব
করিতে
হয়
না
।

সে
জ্ঞানের
রাজ্য
,

ভাবের
স্বর্গ
।
’সূর্যাস্তকালে
দিগন্তবিলীন
পাণ্ডুবর্ণ
সন্ধ্যাতারা
ঘনায়মান
সায়াহ্নে
ক্রমেই
যেমন
পরিস্ফুট
দীপ্তি
লাভ
করে
,

কিরণও	ne_b_mwe
তেমনি
কিছুদিন
ধরিয়া
ভিতর
হইতে
আনন্দে
লাবণ্যে
নারীত্বের
পূর্ণতায়
যেন
প্রস্ফুটিত
হইয়া
উঠিল
।

সে
যেন
তাহার
গৃহের
,

তাহার
সংসারের
ঠিক
মধ্য
-
আকাশে
অধিরোহণ
করিয়া
চারিদিকে
আনন্দের
মঙ্গলজ্যোতি	b_mwe
বিকীর্ণ
করিতে
লাগিল
;

সেই
জ্যোতিতে
তাহার
বৃদ্ধ
পিতার
শুভ্রকেশের	b_mwe
উপর
পবিত্রতার
উজ্জ্বল
আভা
পড়িল
,

এবং
সেই
জ্যোতি
আমার
উদ্‌বেল
হৃদয়সমুদ্রের	b_mwe
প্রত্যেক
তরঙ্গের
উপর
কিরণের
মধুর
নামের
একটি
করিয়া
জ্যোর্তিময়
স্বাক্ষর
মুদ্রিত
করিয়া
দিল
।
এদিকে
আমার
ছুটি
সংক্ষিপ্ত
হইয়া
আসিল
,

বিবাহ
-
উদ্দেশে
বাড়ি
আসিবার
জন্য
পিতার
সস্নেহ
অনুরোধ
ক্রমে
কঠিন
আদেশে
পরিণত
হইবার
উপক্রম
হইল
,

এদিকে
অমূল্যকেও	ne_b_mwe
আর
ঠেকাইয়া
রাখা
যায়
না
,

সে
কোন্‌দিন
উন্মত্ত
বন্যহস্তীর
ন্যায়
আমার
এই
পদ্মবনের
মাঝখানে
ফস
করিয়া
তাহার
বিপুল
চরণচতুষ্টয়	b_mwe
নিক্ষেপ
করিবে
এ
উদ্‌বেগও
উত্তরোত্তর
প্রবল
হইতে
লাগিল
।

কেমন
করিয়া
অবিলম্বে
অন্তরের
আকাঙক্ষাকে
ব্যক্ত
করিয়া
আমার
প্রণয়কে
পরিণয়ে
বিকশিত
করিয়া
তুলিব
,

তাহাই
ভাবিতে
লাগিলাম
।
পঞ্চম
পরিচ্ছেদএকদিন
মধ্যাহ্নকালে
ভবনাথবাবুর	ne_b_mwe
গৃহে
গিয়া
দেখি
,

তিনি
গ্রীষ্মের
উত্তাপে
চৌকিতে
ঠেসান
দিয়া
ঘুমাইয়া	b_mwe
পড়িয়াছে	i_mwe
এবং
সম্মুখে
গঙ্গাতীরের
বারান্দায়
নির্জন
ঘাটের
সোপানে
বসিয়া
কিরণ	ne_b_mwe
কী
বই
পড়িতেছে
।
আমি
নিঃশব্দপদে
পশ্চাতে
গিয়া
দেখি
,

একখানি
নূতন
কাব্যসংগ্রহ
,

যে
-
পাতাটি
খোলা
আছে
তাহাতে
শেলির	 ne_b_mwe
একটি
কবিতা
উদ্‌ধৃত
এবং
তাহার
পার্শ্বে
লাল
কালিতে
একটি
পরিষ্কার
লাইন
টানা
।
সেই
কবিতাটি
পাঠ
করিয়া
কিরণ	ne_b_mwe
ঈষৎ
একটি
দীর্ঘনিশ্বাস
ত্যাগ
করিয়া
স্বপ্নভারাকুল
নয়নে
আকাশের
দূরতম
প্রান্তের
দিকে
চাহিল
;

বোধ
হইল
যেন
সেই
একটি
কবিতা
কিরণ	ne_b_mwe
আজ
এক
ঘণ্টা
ধরিয়া
দশবার
করিয়া
পড়িয়াছে
এবং
অনন্ত
নীলাকাশে
আপন
হৃদয়তরণীর
পালে
একটিমাত্র
উত্তপ্ত
দীর্ঘনিশ্বাস
দিয়া
তাহাকে
অতিদূর
নক্ষত্রলোকে	b_mwe
প্রেরণ
করিয়াছে
।
শেলি	ne_b_mwe
কাহার
জন্য
এই
কবিতাটি
লিখিয়াছিল
জানি
না
;

মহীন্দ্রনাথ	ne_b_mwe
নামক
কোনো
বাঙালি
যুবকের
জন্য
লেখে
নাই
তাহাতে
সন্দেহ
নাই
,

কিন্তু
আজ
এই
স্তবগানে
আমি
ছাড়া
আর
-
কাহারো
অধিকার
নাই
ইহা
আমি
জোর
করিয়া
বলিতে
পারি
।
কিরণ	ne_b_mwe
এই
কবিতাটির
পাশে
আপন
অন্তরতম
হৃদয়
-
পেন্সিল
দিয়া
একটি
উজ্জ্বল
রক্তচিহ্ন
আঁকিয়া
দিয়াছে
,

সেই
মায়াগণ্ডির
মোহমন্ত্রে
কবিতাটি
আজ
তাহারই
,

এবং
সেই
সঙ্গে
আমারও
।
আমি
পুলকোচ্ছ্বসিত
চিত্তকে
সংবরণ
করিয়া
সহজ
সুরে
কহিলাম
,

“
কী
পড়িতেছেন
।
”

পালভরা
নৌকা
যেন
হঠাৎ
চড়ায়
ঠেকিয়া
গেল
।
কিরণ	ne_b_mwe
চমকিয়া
উঠিয়া
তাড়াতাড়ি	b_mwe
বইখানা
বন্ধ
করিয়া
একেবারে
আঁচলের
মধ্যে
ঢাকিয়া
ফেলিল
।
আমি
হাসিয়া
কহিলাম
,

“
বইখানা
একবার
দেখিতে
পারি

?
”
কিরণকে	ne_b_mwe
কী
যেন
বাজিল
,

সে
আগ্রহসহকারে
বলিয়া
উঠিল
,

“
না
না
,

ও
বই
থাক্‌
।
”
আমি
কিয়দ্‌দূরে
একটা
ধাপ
নিচে
বসিয়া
ইংরাজি
কাব্যসাহিত্যের
কথা
উত্থাপন
করিলাম
,

এমন
করিয়া
কথা
তুলিলাম
যাহাতে
কিরণেরও	ne_b_mwe
সাহিত্যশিক্ষা
হয়
এবং
আমারও
মনের
কথা
ইংরাজ
কবির
জবানিতে
ব্যক্ত
হইয়া
উঠে
।

খররৌদ্রতাপে
সুগভীর
নিস্তব্ধতার
মধ্যে
জলের
স্থলের
ছোটো	b_mwe
ছোটো	i_mwe
কলশব্দগুলি
জননীর
ঘুমপাড়ানি
গানের
মতো
অতিশয়
মৃদু
এবং
সকরুণ
হইয়া
আসিল
।
কিরণ	ne_b_mwe
যেন
অধীর
হইয়া
উঠিল
;

কহিল
,

“
বাবা
একা
বসিয়া
আছেন
,

অনন্ত
আকাশ
সম্বন্ধে
আপনাদের
সে
তর্কটা
শেষ
করিবেন
না

?

”
আমি
মনে	b_mwe
মনে	i_mwe
ভাবিলাম
,

অনন্ত
আকাশ
তো
চিরকাল
থাকিবে
এবং
তাহার
সম্বন্ধে
তর্কও
তো
কোনোকালে
শেষ
হইবে
না
;

কিন্তু
জীবন
স্বল্প
এবং
শুভ
অবসর
দুর্লভ
ও
ক্ষণস্থায়ী
।
কিরণের	ne_b_mwe
কথার
উত্তর
না
দিয়া
কহিলাম
,

“
আমার
কতকগুলি
কবিতা
আছে
,

আপনাকে
শুনাইব
।
”

কিরণ	ne_b_mwe
কহিল
,

“
কাল
শুনিব
।
”

বলিয়া
একেবারে
উঠিয়া
ঘরের
দিকে
চাহিয়া
বলিয়া	b_mwe
উঠিল	i_mwe
,

“
বাবা
,

মহীন্দ্রবাবু	ne_b_mwe
আসিয়াছেন
।
”

ভবনাথবাবু	ne_b_mwe
নিদ্রাভঙ্গে
বালকের
ন্যায়
তাঁহার
সরল
নেত্রদ্বয়
উন্মীলন
করিয়া
ব্যস্ত
হইয়া
উঠিলেন
।
আমার
বক্ষে
যেন
ধক্‌
করিয়া
একটা
মস্ত
ঘা
লাগিল
।
ভবনাথবাবুর	ne_b_mwe
ঘরে
গিয়া
অনন্ত
আকাশ
সম্বন্ধে
তর্ক
করিতে
লাগিলাম
।
কিরণ	ne_b_mwe
বই
হাতে
লইয়া
দোতলায়
বোধহয়
তাহার
নির্জন
শয়নকক্ষে
নির্বিঘ্নে
পড়িতে
গেল
।পরদিন
সকালের
ডাকে
লালপেন্সিলের
দাগ
দেওয়া
একখানা
স্টেট্‌স্‌ম্যান
কাগজ
পাওয়া
গেল
,

তাহাতে
বি.এ.
পরীক্ষার
ফল
বাহির
হইয়াছে
।

প্রথমেই
প্রথম
ডিবিশান
-
কোঠায়
কিরণবালা	ne_b_mwe
বন্দ্যোপাধ্যায়	ne_i_mwe
বলিয়া
একটা
নাম
চোখে
পড়িল
;

আমার
নিজের
নাম
প্রথম
দ্বিতীয়
তৃতীয়
কোনো
বিভাগেই
নাই
।
পরীক্ষার
অকৃতকার্য
হইবার
বেদনার
সঙ্গে	b_mwe
সঙ্গে	i_mwe
ব্রজাগ্নির
ন্যায়
একটা
সন্দেহ
বাজিতে
লাগিল
যে
,

কিরণবালা	ne_b_mwe
বন্দ্যোপাধ্যায়	ne_i_mwe
হয়তো
আমাদেরই
কিরণবালা	ne_b_mwe
।

সে
যে
কলেজে
পড়িয়াছে
বা
পরীক্ষা
দিয়াছে
,

একথা
যদিও
আমাকে
বলে
নাই
তথাপি
সন্দেহ
ক্রমেই
প্রবল
হইতে
লাগিল
।

কারণ
,

ভাবিয়া
দেখিলাম
,

বৃদ্ধ
পিতা
এবং
তাঁহার
কন্যাটি
নিজেদের
সম্বন্ধে
কোনো
কথাই
কখনো
আলাপ
করেন
নাই
,

এবং
আমিও
নিজের
আখ্যান
বলিতে
এবং
নিজের
বিদ্যা
প্রচার
করিতে
সর্বদাই
এমন
নিযুক্ত
ছিলাম
যে
,

তাঁহাদের
কথা
ভালো
করিয়া
জিজ্ঞাসাও
করি
নাই
।
জর্মানপণ্ডিত
-
রচিত
আমার
নূতন
-
পড়া
দর্শনের
ইতিহাস
সম্বন্ধীয়
তর্কগুলি
আমার
মনে
পড়িতে
লাগিল
,

এবং
মনে
পড়িল
,

আমি
একদিন
কিরণকে	ne_b_mwe
বলিয়াছিলাম
,

“
আপনাকে
যদি
আমি
কিছুদিন
গুটিকতক
বই
পড়াইবার
সুযোগ
পাই
তাহা
হইলে
ইংরাজি
কাব্যসাহিত্য
সম্বন্ধে
আপনার
একটা
পরিষ্কার
ধারণা
জন্মাইতে
পারি
।
”
কিরণবালা	ne_b_mwe
দর্শনশাস্ত্রে
অনার
লইয়াছেন
এবং
সাহিত্যে
প্রথম
শ্রেণীতে
উত্তীর্ণ
।

যদি
এই
কিরণ	ne_b_mwe
হয়
!
অবশেষে
প্রবল
খোঁচা
দিয়া
আপন
ভস্মাচ্ছন্ন
অহংকারকে
উদ্দীপ্ত
করিয়া
কহিলাম
,

“
হয়
হউক
—
আমার
রচনাবলী
আমার
জয়স্তম্ভ	b_mwe
।
”

বলিয়া
খাতা
-
হাতে
সবলে
পা
ফেলিয়া
মাথা
পূর্বাপেক্ষা
উচ্চে
তুলিয়া
ভবনাথবাবুর	ne_b_mwe
বাগানে
গিয়া
উপস্থিত
হইলাম
।তখন
তাঁহার
ঘরে
কেহ
ছিল
না
।

আমি
একবার
ভালো
করিয়া
বৃদ্ধের
পুস্তকগুলি
নিরীক্ষণ
করিতে
লাগিলাম
।

দেখিলাম
,

এক
কোণে
আমার
সেই
নব্য
জর্মানপণ্ডিত
-
রচিত
দর্শনের
ইতিহাসখানি
অনাদরে
পড়িয়া
রহিয়াছে
;

খুলিয়া
দেখিলাম
,

ভবনাথবাবুর	ne_b_mwe
স্বহস্তলিখিত
নোটে
তাহার
মার্জিন
পরিপূর্ণ
।

বৃদ্ধ
নিজে
তাঁহার
কন্যাকে
শিক্ষা
দিয়াছেন
।

আমার
আর
সন্দেহ
রহিল
না
।
ভবনাথবাবু	ne_b_mwe
অন্যদিনের
অপেক্ষা
প্রসন্নজ্যোতিবিচ্ছুরিত	b_mwe
মুখে	i_mwe
ঘরে
আসিয়া
প্রবেশ
করিলেন
,

যেন
কোনো
সুসংবাদের
নির্ঝরধারায়
তিনি
সদ্য
প্রাতঃস্নান
করিয়াছেন
।
আমি
অকস্মাৎ
কিছু
দম্ভের
ভাবে
রুক্ষহাস্য	b_mwe
হাসিয়া
কহিলাম
,

“
ভবনাথবাবু	ne_b_mwe
,

আমি
পরীক্ষায়
ফেল
করিয়াছি
।
”

যে
-
সকল
বড়ো	b_mwe
বড়ো	i_mwe
লোক
বিদ্যালয়ের
পরীক্ষায়
ফেল
করিয়া
জীবনের	b_mwe
পরীক্ষার	i_mwe
প্রথমশ্রেণীতে
উত্তীর্ণ
হয়
,

আমি
যেন
আজ
তাহাদেরই
মধ্যে
গণ্য
হইলাম
।
পরীক্ষা
বাণিজ্য
ব্যবসায়
চাকুরি
প্রভৃতিতে
কৃতকার্য
হওয়া
মাঝামাঝি	b_mwe
লোকের
লক্ষণ
,

নিম্নতম
এবং
উচ্চতম
শ্রেণীর
লোকদেরই
অকৃতকার্য
হইবার
আশ্চর্য
ক্ষমতা
আছে
।
ভবনাথবাবুর	ne_b_mwe
মুখ
সস্নেহকরুণ
হইয়া
আসিল
,

তিনি
তাঁহার
কন্যার
পরীক্ষোত্তরণসংবাদ
আমাকে
আর
দিতে
পারিলেন
না
;

কিন্তু
আমার
অসংগত
উগ্র
প্রফুল্লতা
দেখিয়া
কিছু
বিস্মিত
হইয়া
গেলেন
।
তাঁহার
সরল
বুদ্ধিতে
আমার
গর্বের
কারণ
বুঝিতে
পারিলেন
না
।এমনসময়
আমাদের
কলেজের
নবীন
অধ্যাপক
বামাচরণবাবুর	ne_b_mwe
সহিত
কিরণ	ne_b_mwe
সলজ্জ
সরসোজ্জ্বল
মুখে
বর্ষাধৌত
লতাটির
মতো
ছল্‌ছল্‌	 ne_b_mwe
করিতে	 b_mwe
করিতে	 i_mwe
ঘরের
মধ্যে
প্রবেশ
করিল
।

আমার
আর
কিছুই
বুঝিতে
বাকি
রহিল
না
।

রাত্রে
বাড়িতে
আসিয়া
আমার
রচনাবলীর
খাতাখানা
পুড়াইয়া
ফেলিয়া
দেশে
গিয়া
বিবাহ
করিলাম
।
গঙ্গার
ধারে
যে
বৃহৎ
কাব্য
লিখিবার
কথা
ছিল
তাহা
লেখা
হইল
না
,

কিন্তু
জীবনের
মধ্যে
তাহা
লাভ
করিলাম
।
